The news is by your side.

কেমন আছেন ? বঙ্গবন্ধুর মহিউদ্দিন

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

চেতনায় একাত্তরঃ আগষ্ট মাস, শোকের মাস, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট ঘাতক বাহিনী রাতের আধারে বঙ্গবন্ধুর বাড়ীতে ডুকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে পরিবার পরিজনসহ গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস, সামনে শোকের মাস আগষ্ট, জাতীয়ভাবে জাতীয় শোক দিবস দেশ বিদেশে পালন করা হবে, তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সংগঠনসমুহ, সরকারী বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল দেশবাসী শোক দিবস পালনের প্রস্ততি গ্রহন করছে। ১৯২০ সালের ২০শে মার্চ  বঙ্গবন্ধু তৎকালিন বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ থানার পাটগাতি ইউনিয়নের টঙ্গিপাড়া নামক গ্রামে জম্ম গ্রহন করেন। আগামী বছর ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জম্মশত বার্ষিকী।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০২০ সালকে মুজিব বর্ষ হিসাবে ঘোষনা করেছেন। এই মহান নেতার জম্মশত বার্ষিকী ২০২০ সাল পুরো বৎসরব্যাপী নানা ধরনের অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে উদ্যাপন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক,সাংস্কৃতিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,ক্রীড়া ও ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের সংগঠনসমুহ নানাধরনের কর্মসুচীর মধ্যদিয়ে জাতির জনকের জম্মশত বার্ষিকী মুজিববর্ষ পালনের প্রস্ততি গ্রহন করছে।

বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে ছিলেন মোঃ মহিউদ্দিন। ১৯৬৭-৬৮ সনে যখন মোঃ মহিউদ্দিন ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত, ইকবাল হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন, ছাত্ররাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন,  ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন, তখন তার নেতা ছিলেন তৎসময়ের ডাকসু নেতা তোফায়েল আহম্মেদ।

সেই সুত্রে বঙ্গবন্ধুর সাথে মোঃ মহিউদ্দিনের যোগাযোগ হয়, বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছায় মোঃ মহিউদ্দিন বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তায় নিয়োজিত হন।

তখন চলছে বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্বে পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলন- সংগ্রাম, সেই সময় মোঃ মহিউদ্দিন  সার্বক্ষনিকভাবে বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন। কাজের ব্যস্ততার জন্য বঙ্গবন্ধু মোঃ মহিউদ্দিনকে নিজ বাসায় থাকার ব্যবস্থা করে দেন। সেই সুত্রে বঙ্গবন্ধু পরিবারের একজন হয়ে যান, বঙ্গমাতাও মোঃ মহিউদ্দিনকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন, বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য সদস্যরা মোঃ মহিউদ্দিনকে নিজেদের একজন মনে করতেন।

১৯৭৫ থেকে ২০১৯ সাল দীর্ঘ ৪৪ বছর কেঁটে গেছে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর, বেঁচে আছেন বঙ্গবন্ধুর মহিউদ্দিন, বঙ্গবন্ধুর দেহরক্ষী, বডিগার্ড, চীফ সিকিউরিটি অফিসার বা পরিবারের একজন সদস্য যে নামেই ডাকা হোক না কেন, মোঃ মহিউদ্দিন ছিলেন বঙ্গবন্ধুর কাছের মানুষ, স্নেহের মানুষ, বিশ্বাসযোগ্য মানুষ, বঙ্গবন্ধু পরিবারের আপনজন।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মোঃ মহিউদ্দিন পালিয়ে থেকেছেন, ধরা পড়ে গ্রেফতার হয়েছেন, ঢাকা সেন্ট্রোল জেলে বন্দি ছিলেন, পাশের কামড়ায় বন্ধি জাতীয় চার নেতাদের বর্বর  নিষ্টুরভাবে হত্যার শব্দ শুনেছেন-দেখেছেন।

বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যার সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় বেঁচে যান।

১৯৮১ সালের ১৭ই মে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন, মোঃ মহিউদ্দিন বিমান বন্দরে গিয়ে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে শেখ হাসিনাকে বরন করেন এবং দেশে ফিরে আসার পুর্বেই কাউন্সিলের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

শেখ হাসিনা সম্মতিতে মোঃ মহিউদ্দিন কাউন্সিলের মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক/সভাপতি নির্বাচিত হন। সেই থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মোঃ মহিউদ্দিন এর রাজনৈতিকভাবে পথ চলা। নানাধরনের ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে জীবনের ৮৮ বছর অতিক্রম করেছেন। অদ্যাবদি মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তাকে এখনোও বঙ্গবন্ধুকে হারানোর ব্যথা ব্যদনা মনে যন্ত্রনা দেয়,  তিনি বঙ্গমাতার আদর স্নেহ, শেখ কামাল,শেখ জামালের ভালোবাসা আর খেলার সাথী শেখ রাসেলের মায়াভরা চাওনী ও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি আকড়ে বেঁচে আছেন। বঙ্গবন্ধুর কথা উঠলে তিনি অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন, মনভরা দুঃখ কষ্ট নিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়েন। মোঃ মহিউদ্দিন বলেন বঙ্গবন্ধু ছিলেন মহামানব, (এর ব্যাখ্যাও তিনি দেন) তিনি বলেন আমি বঙ্গবন্ধুর নখেরও সমানও না। আমি বঙ্গবন্ধুর সেবা করতে পেরে গর্বিত, আমি নিজেকে বঙ্গবন্ধুর সেবক (চাকর) মনে করি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন সততার প্রতীক, মানবতার প্রতীক, আদর্শবান রাজনৈতিক নেতার প্রতীক, এমন নেতা হাজার বছরেও জম্মায় না। বাঙালী ভাগ্যবান এমন নেতা এই দেশে জম্ম নিয়েছিল, আবার এই দেশবাসীর কপাল খারাপ এমন নেতাকে অল্প সময়ের মধ্যে হারাতে হলো।

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করার মাধ্যমে এই দেশের মানুষের মুখে হাঁসি ফুটাতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জীবনের মায়া ত্যাগ করে নিররসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশকে অনেক দুর এগিয়ে নিয়ে গেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে কাজ করতে পেরে আমি নিজেকে সুভাগ্যবান মনে করছি।

যখন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা আমাকে মহিউদ্দিন ভাই বলে ডাক দেন, তখন আনন্দে গর্বে আমার বুকটা ভরে উঠে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বিশ্বনেত্রী, বাংলাদেশের চার বারের নির্বাচিত সফল প্রধানমন্ত্রী, জাতির পিতার কন্যা আর আমি জেলা পয্যায়ের একজন নেতামাত্র।

পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর মতো আদর্শবান বলেই প্রানপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ভাই বলে সম্বোধন করেন।

মহান আল্লাহতায়ালা রাব্বিল আলামিনের কাছে আমার প্রার্থনা, দয়াময়, তুমি বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর নিহত পরিবারের সদস্যদের বেহেস্ত দান করুন আর বঙ্গবন্ধুর জীবিত দুই কন্যাকে দীর্ঘজীবন দান করুন।

পরিশেষে অশ্রু ভেঁজা নয়নে মোঃ মহিউদ্দিন ধীর স্থিরভাবে স্বল্প স্বরে মনে মনে বলে গেলেন বঙ্গবন্ধু আমাকে যে বিশ্বাস করে পাশে রেখে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার কাছ থেকে সেই বিশ্বাসের মর্যাদা নিয়েই আমি মরতে চাই।  বীরমুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহাম্মেদ, সম্পাদক, চেতনায় একাত্তর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.