The news is by your side.

টেলি সামাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

চেতনায় ডেস্কঃ আবদুস সামাদ যিনি টেলি সামাদ নামেই অধিক পরিচিত( ০৮ই জানুয়ারি ১৯৪৫ – ০৬ই এপ্রিল ২০১৯) ছিলেন  বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শক্তিশালী ও জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা।

টেলি সামাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী

টেলি সামাদের ব্যক্তিগত জীবন

টেলিসামাদ ১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের (তৎকালীন বিক্রমপুর) মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার নয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন, তার বড় ভাই চারুশিল্পী আব্দুল হাই।

চলচ্চিত্র জীবন

১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ চলচ্চিত্রে কৌতুকাভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। নয়নমনি ও ‘পায়ে চলার পথ’-এর মত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শকপ্রিয়তা লাভ করেন। ‘মনা পাগলা’ চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনার পাশাপাশি ৫০টির মত চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেন। অভিনয়জীবনে চার দশকে ৬০০’র মত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান মোস্তফা মামুন তার ডাক নাম দিয়েছিলেন টেলিসামাদ। তারপর থেকে তিনি এ নামেই পরিচিত হন। ২০১৫ সালে তার অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র জিরো ডিগ্রী মুক্তি পায়।

মৃত্যু

দীর্ঘদিন ধরেই নানা অসুখে ভুগছিলেন বরেণ্য এই অভিনেতা। সম্প্রতি শরীর বেশি খারাপ হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ০৬ এপ্রিল২০১৯ তার মৃত্যু হয়েছে।

টেলি সামাদের খাদ্য নালীতে সমস্যা রয়েছে। তার বুকে ইনফেকশন ছিল, ডায়াবেটিস ছিল। রক্তের প্লাটিলেটও কমে যাচ্ছিলো বলে জানা গিয়েছিলো। গেল বছরের ৪ ডিসেম্বর অসুস্থ হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন টেলি সামাদ।

সেখানে ১৬ দিন চিকিৎসা নেওয়া পর বাসায় ফিরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন চলচ্চিত্রের এক সময়কার দাপুটে অভিনেতা। সেজন্য তাকে গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সে যাত্রাতেও সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেন তিনি।

কিন্তু হঠাৎ করেই কয়েকদিন আগে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন টেলি সামাদ। পরে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে আনা হয়। এখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবনের অবসান হলো তার।

এর আগে ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা টেলি সামাদকে এর আগে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়। এছাড়া গত বছরের ২০ অক্টোবর তার বাঁ পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতেও জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।

জনপ্রিয় এই অভিনেতার মৃত্যুতে চলচ্চিত্রসহ সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

টেলি সামাদের জনপ্রিয় যত সিনেমা

জিরো ডিগ্রী (২০১৫)

কুমারী মা (২০১৩)

সাথী হারা নাগিন (২০১১)

মায়ের চোখ (২০১০)

আমার স্বপ্ন আমার সংসার (২০১০)

রিকসাওয়ালার ছেলে (২০১০)

মন বসে না পড়ার টেবিলে (২০০৯)

কাজের মানুষ (২০০৯)

মায়ের হাতে বেহেস্তের চাবি (২০০৯)

কে আমি (২০০৯) – হাশেম

কেয়ামত থেকে কেয়ামত (১৯৯৩)

মিস লোলিতা (১৯৮৫)

নতুন বউ (১৯৮৩)

মাটির ঘর (১৯৭৯)

নাগরদোলা (১৯৭৯)

গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮) – বঙ্গা

অশিক্ষিত (১৯৭৮) – কালা

জয় পরাজয় (১৯৭৬)

গুন্ডা (১৯৭৬) – জব্বার

সুজন সখী (১৯৭৫) – বগা

চাষীর মেয়ে (১৯৭৫)

রঙিন রূপবান

ভাত দে এই ছবিগুলোতে দাপটের সাথে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদ। তার চিকিৎসার জন্য প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করেছেন, তিনি ছিলেন একজন জাত শিল্পী, তিনি ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রফেসার ইয়াজ উদ্দিন এর ভাতিজা, তার স্ত্রী বঙ্গবন্ধুর চীফ সিকিউরিটি অফিসার ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, সাবেক এম পি আলহাজ্ব মোঃ মহিউদ্দিন এর ছোট বোন।

জীবনের শেষ সময় অসুস্থ্য শরিল নিয়ে প্রায়ই নিজ জম্মস্থান মুন্সীগঞ্জ এসেছেন, একদিন আমার অফিসে আসেন এবং তাকে নিয়ে মুন্সীগঞ্জের কিছু ঐতিহ্যবাহী স্থানে ঘুরে ঘুরে আনন্দ উপভোগ করি, এরপর আর তার গ্রামের বাড়িতে আসা হয়নি, কিছুদিন পর মুন্সী গঞ্জের এই কৃতিমান অভিনেতা মারা যান।

কামাল আহাম্মেদ, সম্পাদক, চেতনায় একাত্তর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed.

%d bloggers like this: