The news is by your side.

ডেঙ্গু কি ছোঁয়াচে রোগ।। ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে ভুল ধারণা!

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

চেতনায় ডেস্কঃ ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ভুল ধারণা অনেক। কারো কারো ধারণা, ডেঙ্গু জ্বর ছোঁয়াচে রোগ। কেউ কেউ মনে করেন, ডেঙ্গু জ্বর আক্রান্ত রোগীকে স্পর্শ করলেই বুঝি তা স্পর্শকারীর মধ্যে ছড়িয়ে যাবে। 

আবার কারো ধারণা, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে পৃথক করে রাখা উচিত। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে, ডেঙ্গু কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। কাজেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে স্পর্শ করলে, একই বিছানায় ঘুমালে, একই তোয়ালে কিংবা একই কাপড়চোপড় ব্যবহার করলে, একই গ্লাস বা প্লেট ব্যবহার করলে অন্যদেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। 

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে পৃথক করে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি কখনোই সরাসরিভাবে অন্য কাউকে আক্রান্ত করতে পারে না। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির উপসর্গ দেখা দেওয়া থেকে শুরু করে ছয় দিন পর্যন্ত মাশার জন্য সংক্রমক হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ এ সময়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো স্বাভাবিক এডিস মশা কামড় দিলে সেই মশাও ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহক হয়ে পড়বে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেলে তখন আর এটি হবে না। তাই এ সময়ে আক্রান্ত রোগীকে মশারির নিচে রাখা যেতে পারে। 

আবার অনেকের ধারণা, একবার ডেঙ্গু জ্বর হলে বাকি জীবন আর কখনো ডেঙ্গু জ্বর হবে না। সাধারণের এই ধারণাও পুরোপুরি সত্য নয়। কারণ, ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ রয়েছে। এই চারটির মধ্যে যেকোনো একটির সংক্রমণ থেকেই ডেঙ্গু জ্বর হতে পারে। কাজেই ডেঙ্গু ভাইরাসের যেকোনো একটি সেরোটাইপ একবার আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার পর ভবিষ্যতে ভাইরাসের সেই সেরোটাইপটি দ্বারা আর আক্রান্ত হওয়ার কথা নয়। কারণ, শুধু সেই সেরোটাইপটিতে রোগীর আজীবন প্রতিরোধ ক্ষমতা (লাইফ লং ইউমিউনিটি) গড়ে ওঠে। তবে ডেঙ্গু ভাইরাসের বাকি তিনটি সেরোটাইপ দিয়ে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ঠিকই রয়ে যায়। তবে কেউ যদি পৃথকভাবে ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ দিয়ে জীবনে চারবার আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে বাকি জীবন আর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কথা নয়। 

অনেকে মনে করেন, ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণু বাতাসে ছড়ায়। প্রকৃতপক্ষে ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। শুধু ডেঙ্গু ভাইরাস আক্রান্ত এডিস মশার কামড়েই কোনো ব্যক্তি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। এডিস মশাই ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণু বহন করে থাকে। কাজেই বাতাসে ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণু উড়ে বেড়ানোর সুযোগ নেই। 

কেউ কেউ মনে করেন, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালেও সেই শিশুর হয়তো ডেঙ্গু জ্বর হবে। কিন্তু এ ধারণা ঠিক নয়। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন। মায়ের দুধের সঙ্গে ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুর ভাইরাস শিশুর শরীরে যেতে পারে না। তবে শিশুটিকে যদি ডেঙ্গু জ্বর আক্রান্ত মশা কামড় দেয়, তাহলে শিশুটিরও ডেঙ্গু জ্বর হতে পারে।

লেখক : ডা. সজল আশফাক, সহযোগী অধ্যাপক, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: