The news is by your side.

দীপক আগারওয়াল নামের এক ভারতীয় জুয়াড়ির প্রস্তাবে সাকিব রাজি হয়নি। তথ্য ফাঁস করলে সাকিব এর প্রাণনাশের আশঙ্কা ছিল।

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- ভারতীয় জুয়াড়ির আই.পি.এল ক্রিকেটে ফিক্সিংয়ে প্রস্তাব গোপন করায় বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানকে ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। দেশসেরা ক্রিকেটারকে তিনবার ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেন দীপক আগারওয়াল নামের এক ভারতীয় জুয়াড়ি। অন্যতম বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসার পর পরই লাইমলাইটে চলে আসেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কালো তালিকায় থাকা কে এই জুয়াড়ি? বাংলাদেশি গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই জুয়াড়ির পরিচয়সহ অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্যই।

আগারওয়াল ভারতীয় নাগরিক। তার আসল নাম বিক্রম আগারওয়াল। সাকিবের পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে ক্রিকেটারের মোবাইল ফোন নাম্বারটি পান তিনি। এরপর হোয়াটসঅ্যাপে বাংলাদেশ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এ ইন্ডিয়ান জুয়াড়ি।আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকসু) তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, মোট তিনবার সাকিবকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেন আগারওয়াল। তার সব প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করেন অন্যতম ওয়ার্ল্ড নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার। তবে সেসব তথ্য আকসু কিংবা দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) জানাননি তিনি।

ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার কারণে এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হয়েছেন আগারওয়াল। বিশ্বব্যাপী তুমুল জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্জাইজিভিত্তিক ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএলে) ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে বেশ কয়েকবার কারাগারে গেছেন তিনি।আইসিসির চিহ্নিত জুয়াড়ি আগারওয়াল। কাউন্সিলের কালো তালিকায় ওপরের দিকে আছে তার নাম। এ মুহূর্তে মোস্ট ওয়ান্ডেট তিনি।

২০১৩ সালে ফিক্সিংয়ের দায়ে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার হন বলিউড অভিনেতা বিন্দু দারা সিং এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সাবেক সভাপতি এন শ্রীনিবাসনের জামাতা গুরুনাথ মায়াপ্পান। ফিক্সিংয়ের সঙ্গে আগারওয়ালের জড়িত থাকা কথা স্বীকার করেন তারা।আগারওয়াল মূলত একজন হোটেল ব্যবসায়ী। চেন্নাই শহরে দুটি হোটেল আছে তার। ১২৯ কক্ষের ব্যবসায়িক হোটেল ফরচুন সিলেক্ট পামস এবং পাঁচতারকা হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুর মালিক তিনি। ভিভিএ হোটেল প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান ও আইটিসি হোটেল গ্রুপের সদস্য এ জুয়াড়ি।

সেই দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, রিয়েল এস্টেট ব্যবসার মাধ্যমে হোটেল ব্যবসায় পা রাখেন আগারওয়াল। এতে চটজলদি তার ভাগ্য বদলে যায়। রাতারাতি কোটিপতি বনে যান তিনি। এর পরই জুয়াড়ি চক্রে জড়িয়ে পড়েন। বুকি হয়ে অনেকসময় ভিক্টর পরিচয়েও বিভিন্ন খেলোয়াড়, কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আগারওয়াল।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে নভেম্বর মাসে সাকিবের সঙ্গে দীপকের কথা হয়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ চলাকালীন সাকিবের এক পরিচিতই দীপককে তার নম্বর দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে আবার নতুন করে দীপকের সঙ্গে কথা শুরু হয় সাকিবের।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের সময় সাকিবকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেন ভারতীয় বুকি। সাকিবকে হোয়াটসঅ্যাপ করে দীপক বলে, “আমরা এখনই কাজটা কবর, নাকি আমি আইপিএল পর্যন্ত অপেক্ষা করব”এই ‘কাজ’ শব্দ নিয়েই যত বিপত্তি। কী ‘কাজ’? এই নিয়েই উঠেছে যাবতীয় প্রশ্ন। এরপর আইপিএল চলাকালীন হায়দরাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে বেশ কিছু তথ্য সাকিবের কাছে চায় দীপক।হোয়াটসঅ্যাপের সেই কথা-বার্তা বেশ কিছু ডিলিট করে দেন সাকিব। জেরায় আইসিসি-কে জানান সাকিব আল হাসান। কিন্তু শুরু থেকে এ বিষয়ে তথ্য গোপন করায় শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে সাকিবকে।

আইসিসির দুর্নীতিদমন শাখার কাছে তথ্য গোপন করায় বিশ্বের একনম্বর ওডিআই অলরাউন্ডারকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নির্বাসিত করেছে আইসিসি। তবে দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় এক বছরের শাস্তি আপাতত স্থগিত থাকবে। ২০২০ সালে আবার মাঠে ফিরতে পারবেন সাকিব। তবে সাকিব ভক্তরা মনে করে ভারতীয় বুকি আগারয়ালা একজন দুর্দর্শ প্রকৃতির জুয়াড়ি ও অর্থশালী ব্যবসায়ী তার সাথে মাফিয়া ডনদের সম্পর্ক আছে, তাই সাকিব ম্যাচ ফিক্সিংয়ের এই প্রস্তাব প্রকাশ করলে তার জীবনের উপর হুমকি আসতে পারে, সেই শঙ্কার কারনেই সাকিব এই তথ্য আই সি সি, বি সি সি কে অবহিত করেন নাই। তা ছাড়া সাকিব মনে করছে যেহেতু আমি ম্যাচ ফিক্সিংয়ের এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছি তাই এই নিয়ে কোণ দুশ্চিন্তার কারন নাই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.