The news is by your side.

বাংলা সিনেমার নায়করাজ রাজ্জাক এর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

সরনালি বেলাঃ বাংলা সিনেমার অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক ২৩শে জানুয়ারি ১৯৪২ সালে জম্মগ্রহন করেন মাত্র ৭৫ বৎসর বয়সে ২০১৮ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। চলচ্চিত্রের জলন্ত কিংবদন্তী রাজ্জাক একাধারে একজন অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্র অঙ্গনে ভূমিকা পালন করেছেন।১৯৬৪ সালে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার উত্তাল সময়ে নতুন জীবন গড়তে একজন সাধারন মানুষ হিসাবে আবদুর রাজ্জাক পরিবারসহ ঢাকায় চলে আসেন প্রায় অসহায় অবস্থায়। কঠোর পরিশ্রম আর জীবনের প্রতিটি মহুর্তের সাথে সংগ্রাম করে উপাধি পেয়েছেন নায়করাজ নাজ্জাক। জীবনে নানা সংগ্রামের পথ অতিক্রম করে রাজ্জাক দর্শকের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন, আর এই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিলশনে ঘরোয়া নামের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়।

জীবনের প্রতিটি মহুর্তের সাথে সংগ্রাম করে উপাধি পেয়েছেন নায়করাজ রাজ্জাক, চলচিত্র পরিচালক আব্দুল জব্বার খানের সহযোগিতায় তিনি একবাল ফিল্মে কাজ করার সুযোগ লাভ করেন।পরবর্তীতে তিনি উজালা ছবিতে কাজ শুরু করেন পরিচালক কামাল আহমেদের সহকারী হিসাবে, এরপর সালাউদ্দিন প্রোডাকশন্সের তেরো নাম্বার ফেকু ওস্তাগার লেন চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে সবার কাছে নিজ মেধার পরিচয় দেন রাজ্জাক। ‌কার বউ, ডাক বাবু, আখেরী স্টেশনসহ আরও বেশ কটি ছবিতে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করে তিনি। পরে বেহুলা চলচ্চিত্রে সুচন্দার বিপরীতে তিনি নায়ক হিসেবে ঢালিউডে উপস্থিত হন এবং সবার মন জয় করে নেন। কি যে করি ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০১১ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনি আজীবন সম্মাননা অর্জন করেছেন। এই পর্যন্ত তিনি চার বার জাতীয় সম্মাননা লাভ করেন। রাজ্জাকের অভিনিত ও পরিচালিত ছবি ১৮টি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ছবি হচ্ছেঃ- অনন্ত প্রেম, মৌ চোর, বদনাম, আমি বাঁচতে চাই, কোটি টাকার ফকির, মন দিয়েছি তোমাকে এবং উত্তর ফাল্গুনী। তার নির্মিত সর্বশেষ ছবি হচ্ছে আয়না কাহিনী।

রাজ্জাক বাংলা উর্দু মিলিয়ে এই পর্যন্ত প্রায় ৫০০ টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি শুধু নায়ক হিসাবে নয়। একজন পরিচালক হিসাবেও সফল। চলচ্চিত্রের বাইরে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করেছেন নায়করাজ রাজ্জাক। তার প্রযোজনা সংস্থার নাম রাজলক্ষী প্রোডাকশন। তার পুরু নাম আব্দুর রাজ্জাক। ডাক নাম রাজু, রাজ্জাক, রাজা। তিনি ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি কলিকাতার টালিগঞ্জের নাগতলায় জম্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম আকবর হোসেন এবং মাতার নাম নিসারুন নেস। রাজ্জাকের তিন ভাই তিন বোন তাদের মধ্যে তিনি ছোট। তিনি সর্বপ্রথম কলকাতার শিলালিপি নামে একটি ছবিতে অভিনয় করেন। তিনি ১৯৬২ সালে খায়রুন নেসাকে (লক্ষ্মী) বিয়ে করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি প্রথম ঢাকায় আগমন করেন তিন পুত্র (বাপ্পারাজ, বাপ্পি, সম্রাট) দুই কন্যা (শম্পা, ময়না) এবং স্ত্রী খায়রুন নেসাকে নিয়ে কলমাপুর বসতি স্থাপন করেন। রাজ্জাক নায়ক হিসাবে প্রথম বেহুলা ছবিতে অভিনয় করেন। তার সর্বপ্রথম প্রযোজিত ছবি আকাঙাক্ষা এবং পরিচালক হিসাবে প্রথম ছবি অনন্ত প্রেম, এই প্রযন্ত তার অভিনিত মোট ছবির সংখ্যা প্রায় ৫০০।

রাজ্জাকের সেরা প্রাপ্তি ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হওয়া। তার খ্যাতি নায়করাজ রাজ্জাক। অভিনয়ের শেষ সময় তিনি কলকাতার বহু ছবিতে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন, দুই বাংলার মানুষের কাছে রাজ্জাক সমান জনপ্রিয় অভিনেতা নায়ক রাজ রাজ্জাক, নায়করাজ রাজ্জাক এর ১ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে চলচিত্রাঙ্গনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নানা ধরনের সভার আয়োজন করে, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া নানা বিষয় লেখা প্রকাশ করে। চেতনায় একাত্তর সম্পাদক ও ভাস্কর সাহিত্য সংস্কৃতি গোষ্ঠীর সভাপতি, চিপাচসের সাবেক প্রচার সম্পাদক বীর কামাল উদ্দিন আহাম্মেদ নায়করাজ রাজ্জাক এর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাকে স্মরণ করে নায়করাজ রাজ্জাক এর আত্মার মাগফেরাত কামনা ও পরিবার বর্গের প্রতি সহানুভুতি প্রকাশ করেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.