The news is by your side.

মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির পরিপত্র বাতিল

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করে সরকারের জারি করা দুটি গেজেট, একটি পরিপত্র অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০১৮ এর সংজ্ঞা সংক্রান্ত ২ ধারার ১১ উপধারার অংশবিশেষ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া রায় পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী পরিশোধ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বয়সসীমা নির্ধারণের পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে ১৫টি রিট আবেদনে দেয়া রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এ আদেশের ফলে মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রে বয়সের কোনো সীমাবদ্ধতা আর রাইল না। যাদের সনদ রয়েছে তারাই মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন।

এদিকে রায় ঘোষণার সময় ৭ মার্চের ভাষণ পড়তে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ। বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ পড়তে পড়তে আদালতে তিনি কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, এক কঠিন সংকটময় পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সেই ভাষণ একাত্তরের রণাঙ্গনে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। আর একাত্তর পরবর্তী সময়ে সেই ভাষণের মধ্যেই সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষ খুঁজে নিয়েছে তাদের মুক্তির পথ। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর কোথাও মুক্তিযোদ্ধাদের বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না। মুক্তিযুদ্ধ মূলত মানুষ আবেগের তাড়না থেকে করে। দেশের প্রতি ভালোবাসার কারণে করে। বয়স দিয়ে কখনও ভালোবাসা বাঁধা যায় না।’ আদালত বলেন, ‘প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সাত-আট বছর বয়সী যোদ্ধা ছিল। বাংলাদেশে তো শিশু মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বইও আছে। এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। গত ৪৫ বছর ধরে তারা (রিটকারীরা) সব সুবিধা পেয়ে আসছেন। হঠাৎ করে তারা জানলেন তারা আর মুক্তিযোদ্ধা নেই। তাই যে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর ভিত্তি করে দেশ স্বাধীন হয়েছে, সেই মুক্তিযোদ্ধাদের যদি অস্বীকার করি তাহলে আমরা আর সামনে এগোতে পারব না।’

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন রিটের আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর সাদাত, ব্যারিস্টার এবিএম আলতাফ হোসেন, মো. জাহাঙ্গীর জমাদ্দার, নারগিস তানজিমা, সেলিনা আক্তার চৌধুরী, শরীফ আহমেদ, ইউনুছ আলী আকন্দ, শুভ্রজিত ব্যানার্জি ও এআরএম কারুজ্জামান কাকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।

পরে রিটকারীদের অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেন, ‘যারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত এবং ভাতা পেয়ে আসছিলেন, কোনো রকম কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই তাদের ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়। তাদের অমুক্তিযোদ্ধা বলা হয়। বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় যাদের বয়স ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ১২ বছর ৬ মাস হয়নি তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবে না। আমরা সব আইন-কানুন কোর্টের সামনে পেশ করি, কোর্ট সব দেখে রায় দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান এবং বঙ্গবন্ধুর ভাষণেও দেখবেন তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেছিলেন। সেখানে বয়সের কোনো বিধান ছিল না। আমাদের যিনি বীর প্রতীক ছিলেন শহীদুল ইসলাম লালু, মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ১০ বছর। বঙ্গবন্ধু তাকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন এবং বীর প্রতীক খেতাব দিয়েছিলেন। সরকারের এ সিদ্ধান্তের কারণে বীর প্রতীক তো ননই, তিনি আজ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও বিবেচিত হবেন না।২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর ‘মুক্তিযোদ্ধা’র সংজ্ঞা ও বয়স নির্ধারণ করে গেজেট জারি করা হয়। ওই গেজেটে বলা হয়, ‘মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তারিখে ন্যূনতম ১৩ বছর হতে হবে।’ এরপর ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি একটা পরিপত্রের মাধ্যমে সে গেজেট সংশোধন করে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স হতে হবে ১২ বছর ৬ মাস। ওই দুটি গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে মুক্তিযোদ্ধারা হাইকোর্টে পৃথক রিট দায়ের করেন। সুত্রঃ দৈনিক যুগান্তর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.