The news is by your side.

সময় পেলে ঘুরে আসুন, মুন্সীগঞ্জ- বিক্রমপুর।। অন্য রকম ভালোলাগার অনুভূতি

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

মিডিয়া নিউজঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিয্যে লীলাভূমি বিক্রমপুর তথা মুন্সীগঞ্জ জেলা, যদি বিক্রমপুরের ভুগলিক সিমায় যুক্ত ছিল দোহার নবাবগঞ্জ  উপজেলা ছিল না গজারিরা উপজেলা, মুন্সীগঞ্জ জেলার নতুন সীমানা নিদ্ধারন করা হয় গজারিয়া উপজেলাকে যুক্ত করে আর দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলাকে মুন্সীগঞ্জ জেলা থেকে বাদ দিয়ে ঢাকা জেলার সাথে যুক্ত করা হয়। বিক্রপুরের ইতিহাস থেকে জানা যায়, খৃষ্ট পূরব পাঁচ শতক আগে জৈনক সমুদ্র গুপ্ত নামের এক রাজার এই বদ্বীপে আগমন এবং বসতি ও রাজ্য শাসন সুরু করেন। 

এরপর থেকে গুপ্ত-পাল-সেন তিন রাজবংশের রাজত্বকালে বিক্রমপুর ছিল রাজধানী অর্থাৎ বিক্রমপুর থেকেই রাজ্য শাসন কাজ পরিচালিত হতো।

পূর্ববঙ্গ বলতে বলা হত আগের বাংলা, সেই আগের বঙ্গ ছিল বৃহৎ বঙ্গ, যাহা আসাম বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল আগের বঙ্গ, পরবর্তীতে বঙ্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়, আমাদের এই অঞ্চলের লোকদের নিয়ে পূর্ব বঙ্গ আর ভারতের অংশের বঙ্গকে নিয়ে পশ্চিম বাংলা করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুরের ঐতিহ্যের খ্যাতি জগত জোড়া। ইতিহাসসমৃদ্ধ এই জনপদ এখন দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী। কালের সাক্ষী হয়ে এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বহু প্রাচীন স্থাপনা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এই জনপদের জৌলুস ছড়ায়। পর্যটকদের হাতিছানি দিয়ে ডাকে। আসন্ন শীতে রাজধানীর কাছের পড়শী বিক্রমপুরে বেড়াতে পারেন। সঙ্গে শীতের খেজুর রস, পিঠা-পুলির স্বাদও নিতে পারেন আর পদ্মার ইলিশ আছেই, মাওয়া ঘাঁটের হোটেলে বসে গরম ভাতের সাথে গরম গরম ইলিশ ভাজা সাথে শুকনো মরিচ ভাজা, ও পাচ ফোঁড়ন দেয়া মেথির ডাল, কি মজা, । একবার খেলে আরেকবার খাওয়ার লোভ সম্বরণ করা সত্যিই কষ্টের। মাইলের পর মেইল জুড়ে আলুর ক্ষেত আর সরিষা ক্ষেতে হলুদ রঙয়ের মেলা যে কোন ভ্রমন পিপাসু মানুষের মন জুড়িয়ে যাবে।

কী নেই এখানে। হাজার বছরের প্রাচীন পাল আমলের বৌদ্ধ বিহার ছাড়াও মুঘল স্থাপত্য ইদ্রাকপুর কেল্লা, সুলতানী আমলের বাবা আদম শাহীর  মসজিদ এবং ব্রিটিশ স্থাপত্য সোনারং জোড়া মঠকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের বিচরণ শুরু হয়ে গেছে। সদর উপজেলার রঘুরামপুরে হাজার বছরের প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার এবং টঙ্গিবাড়ী উপজেলার নাটেশ্বরে প্রায় দেড় হাজার বছরের প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির স্তূপ তথা বৌদ্ধনগরী মাটির নিচে পাওয়া গেছে। এসব প্রাচীন অমূল্য নিদর্শন দেখতে এখানে উৎসুক মানুষের ভিড় লেগেই আছে। এত কাছাকাছি চার শাসনামলের প্রাচীন নিদর্শন বিরল।

শুধু প্রাচীন স্থাপত্যই নয়, রয়েছে প্রকৃতির নয়নাভিরাম পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, ইছামতি, রজত রেখা ও কাজল রেখা নদীর অপরূপ সৌন্দর্য। মাওয়ার পদ্মার চর এখন আকর্ষণীয় স্থান। জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর পৈত্রিক ভিটা শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়ীখাল পর্যটকদের অন্যতম বিচরণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এটি এখন দেশের অন্যতম পিকনিক স্পট। হেমন্তের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলায় ভেসে এখন মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুরে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দই আলাদা। শীত দরজায় কড়া নাড়ছে। সকালের ঘাসে দেখা মেলে শিশির বিন্দুর। পালতোলা নৌকা, আর রাখালের গান, পিঠে পুলির দেখা মিলবে বিক্রমপুরে। বাংলার বারভূইয়াদের দমনের উদ্দেশ্যে মুন্সীগঞ্জে ১৬৬০ খ্রীস্টাব্দে মীর জুমলা ধলেশ্বরী নদীর তীরে দুর্গ নির্মাণ করেন। দুর্গের পূর্বদিকে ইংরেজীতে লেখা রয়েছে ‘দি ইদ্রাকপুর ফোর্ট’। বর্তমানে এটি মুন্সীগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। এই দুর্গকে কেন্দ্র করেই জেলা শহর মুন্সীগঞ্জে জনবসতি গড়ে ওঠে। সোনারং জোড়া মঠ টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সত্যেন সেনের সোনারং গ্রামে অবস্থিত। এমন সুন্দর জোড়া মঠ ভারতীয় উপমহাদেশে বিরল। অনুমান করা হয় এখন থেকে সাড়ে তিনশ’ বছর আগে এই জোড়া মঠ নির্মিত হয়। উপমহাদেশের সর্বোচ্চ মঠ হর শ্রীনগর উপজেলার শ্যামসিদ্ধিতে। সুবিশাল এই মঠের উচ্চতা ২৪২ ফুট। মঠের মূল দরজার ঠিক উপরে মার্বেল পাথরের নাম ফলকে লেখা রয়েছে ‘শম্ভুনাথে বাসাধর্দ মঠ’ শতাব্দ ১৭৫৮ সন ১২৪৩। শম্ভুনাথ মজুমদার মহাশয় এই মঠ নির্মাণ করেন।

সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের কালীর আটপাড়ায় রয়েছে প্রাচীন সতীদাহ মন্দির। এটিও বিলুপ্তির পথে। একই উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের পানাম পোল ঘাটা গ্রামে রয়েছে দেড় হাজার বছরের পুরনো ইটের পুল। ইট দিয়ে তৈরি এই পুলটি অন্যতম আকর্ষণীয় পুরাকীর্তি। কমলাঘাট-টঙ্গীবাড়ি খালের উপর এটি স্থাপিত।

মুন্সিগঞ্জ জেলার পর্যটন অঞ্চল/দর্শনীয় স্থান সমূহ

রাজধানী থেকে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ঐতিহাসিক জনপদ মুন্সিগঞ্জ। এর উত্তরে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা, পূর্বে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলা, দক্ষিণে মাদারীপুর ও শরিয়তপুর জেলা এবং পশ্চিমে ঢাকা ও ফরিদপুর জেলা। পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, ইছামতি ও শীতলক্ষা এ জেলার প্রধান নদী। এ জেলার বেশিরভাগ বেড়ানোর জায়গাই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাকেন্দ্রিক। কড়চার এবারের বেড়ানো একদিনে মুন্সিগঞ্জ ভ্রমণ।

ইদ্রাকপুর দুর্গ
মুন্সীগঞ্জ শহরের ইদ্রাকপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ইদ্রাকপুর দুর্গ। ইতিহাস থেকে জানা যায় মুঘল সুবাদার মীর জুমলা ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরে পুরনো ইছামতি নদীর পশ্চিম তীরের ইদ্রাকপুরে এই দুর্গটি নির্মাণ করেন। নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ ও সোনাকান্দা দুর্গের চেয়ে এটি আয়তনে কিছুটা ছোট। সে সময় মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকা রক্ষা করার জন্য নির্মিত হয়েছিল এই দুর্গটি। সুরঙ্গ পথে ঢাকার লালবাগ দুর্গের সাথে এই দুর্গের সংযোগ ছিল বলে একটি জনশ্রুতি আছে। উঁচু প্রাচীর ঘেরা এই দুর্গের চারকোণে রয়েছে একটি করে গোলাকার বেস্টনী। দুর্গের ভেতর থেকে শত্রুর প্রতি গোলা নিক্ষেপ করার জন্য চারদিকের দেয়ালের গায়ে রয়েছে অসংখ্য ছিদ্র। বাংলাদেশে মুঘল স্থাপত্যের অনন্য নির্দশন হিসেবে ইদ্রাকপুর দুর্গটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয় ১৯০৯ সালে।

রামপাল দীঘি
জেলার রামপালে অবস্থিত। বিক্রমপুরের রাজধানী রামপালের রাজা বল্লাল সেন জনগণের পানীয় কষ্ট দূর করার জন্য এই বিশাল দীঘিটি খনন করেন। কিংবদন্তি আছে, বল্লাল সেনের মা প্রজাদের পানীয় জলের কষ্ট দূর করতে তাকে একটি দীঘি খনন করার আদেশ দেন। বল্লাল সেন মাকে আশ্বাস দেন, তিনি (মা) যতদূর হেঁটে যেতে পারবেন ততটুকু জায়গা নিয়ে দীঘি খনন করে দিবেন। পরের দিন সকালে তার মা দক্ষিণ দিকে হাঁটতে শুরু করেন। বল্লাল সেন দেখলেন তার মা অনেক দূর পর্যন্ত হেঁটে চলে গেছেন। তখন তার অসুস্থতার সংবাদ পাঠালে তিনি ফিরে আসেন। সেদিন বল্লাল সেনের মা যতদূর পর্যন্ত হেঁটে গিয়েছিলেন ততটুকু দীর্ঘ দীঘি খনন করেন বল্লাল সেন।

বল্লালবাড়ি
রামপাল দীঘির উত্তর পাশে অবস্থিত বল্লাল সেনের বাড়ি। এখানে ছিল বল্লাল সেনের রাজপ্রাসাদ ও একটি পরিখা। বর্তমানে পরিখার চিহ্ন থাকলেও রাজপ্রাসাদটি ধ্বংস হয়ে গেছে।

বাবা আদম শহীদ মসজিদ
জেলার রামপালের রেকাবি বাজার ইউনিয়নের কাজী কসবা গ্রামে অবস্থিত বাবা আদম শহীদ মসজিদ। এর কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের উপরের একটি শিলালিপি থেকে জানা যায়, সুলতান ফতেহ শাহ’র শাসনামলে, ১৪৮৩ সালে মালিক কাফুর মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির বাইরের দিকের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে ১০.৩৫ মিটার ও ৩.৭৫ মিটার। এর দেয়াল প্রায় ২ মিটার পুরু। মসজিদের উপরে দুই সারিতে ছয়টি গম্বুজ আছে। মসজিদের পাশেই আছে বাবা আদমের সমাধি। জনশ্রুতি আছে, বল্লাল সেনের রাজত্বকালে বাবা আদম নামে একজন ব্যক্তি ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলে আসেন। বল্লাল সেনের নির্দেশে বাবা আদমকে হত্যা করা হলে তাকে এখানে সমাহিত করা হয়।

মীরকাদিম পুল
মুন্সিগঞ্জ শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে মীরকাদিম খালের ওপর নির্মিত মুঘল আমলের পুল। প্রায় ৫২.৪২ মিটার দৈর্ঘ্যের এ পুলটি বেশ কয়েকবার সংস্কারের ফলে এর পুরনো রূপ এখন আর নেই। চুন-সুরকিতে তৈরি এ পুলটির সঠিক নির্মাণকাল জানা যায়নি।

পণ্ডিতের ভিটা
সদর উপজেলার বজ্রজোগিনী ইউনিয়নের সোমপাড়ায় অবস্থিত শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্করের বসতভিটা। বর্তমানে এখানে থাই স্থাপত্য রীতিতে তৈরি একটি স্মৃতিসৌধ বর্তমান।

শ্যাম শিদ্ধির মঠ
জেলার শ্রীনগর উপজেলার শ্রীনগর বাজারের পশ্চিম দিকে শ্যামসিদ্ধি গ্রামে অবস্থিত এ মঠ। মঠটির দক্ষিণ দিকের প্রবেশপথের উপরের বাংলা শিলালিপি অনুযায়ী, ১৮৩৬ সালে জনৈক শম্ভুনাথ মজুমদার এটি নির্মাণ করেন। ইট নির্মিত বর্গাকোর এ মঠের দৈর্ঘ্য ৬ মিটার এবং উঁচু প্রায় ২০ মিটার।

সোনারং জোড়া মঠ
জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সোনারং গ্রামে অবস্থিত পাশাপাশি দুটি মঠ। এর বড়টি শিবের উদ্দেশ্যে এবং ছোটটি কালীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত। শিব মন্দিরটি ১৮৪৩ সালে এবং কালী মন্দিরটি ১৮৮৬ সালে নির্মিত। জানা যায়, রূপচন্দ্র নামক এক হিন্দু বণিক এর নির্মাতা।

পদ্মা রিজর্ট
জেলার লৌহজংয়ে পদ্মার চরের মনোরম একটি জায়গায় নির্মিত পদ্মা রিজর্ট। এখানে আছে কাঠের তৈরি ষোলোটি কটেজ। পদ্মা নদীর সৌন্দর্য উপভোগের সঙ্গে সঙ্গে থাকা-খাওয়ারও সুব্যবস্থা আছে। এখানকার রেস্তোরাঁটির খাবার মানও ভালো। কটেজে অবস্থান না করতে চাইলে শুধু জায়গাটি বেড়িয়ে আসা যায়। পদ্মা রিজর্টের আগাম বুকিং দেয়া যাবে এই নম্বরে ০১৭১৩০৩৩০৪৯।

কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সড়ক ও জলপথে মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরে আসা যায়। ঢাকার গুলিস্তান ও বঙ্গভবনের দক্ষিণ পাশ থেকে নয়ন পরিবহন, ঢাকা ট্রান্সপোর্ট ছাড়াও বেশ কিছু বাস মুন্সিগঞ্জ যায়। ভাড়া ৩০-৪০ টাকা। এছাড়া ঢাকার সদরঘাট থেকে ছোট ছোট কিছু লঞ্চ, চাঁদপুরগামী সব বড় লঞ্চই মুন্সিগঞ্জ কাঠপট্টি স্টেশনে থামে। ভাড়া ৩০ থেকে পঞ্চাশ টাকা।

কোথায় থাকবেন
ঢাকা থেকে দিনে দিনে মুন্সিগঞ্জ ভ্রমণ শেষ করে ফিরে আসা সম্ভব। তাছাড়া জেলাশহরে থাকার সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। শহরের দু-একটি হোটেল হলো- হোটেল থ্রি স্টার (০১৭১৫৬৬৫৮২৯, ০১৭১৫১৭৭৭১৬) এবং হোটেল কমফোর্ট। এসব হোটেল ১৫০-৬০০ টাকায় থাকার ব্যবস্থা আছে। ভ্রমণে গেলে মুন্সিগঞ্জের জায়গাগুলো দেখে সবশেষে পদ্মা রিজর্টে (০১৭১৩০৩৩০৪৯) এসে থাকলে ভালো লাগবে।

তাছাড়া মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকা মাওয়া রোডে এবং মুক্তারপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে ২৪ ঘণ্টা ঢাকা নারায়নগঞ্জের পরিবহন পাওয়া যায়।

আপনি মুন্সী আসলে সরাসরি সি এন জি অটো বা ট্যাঁস্কি, জিপ ভাড়া নিয়ে আসতে পারেন। কিংবা মুন্সী গঞ্জের বিভিন্ন স্ট্যান্ড থেকে অটো ভাড়া নিয়ে দর্শনীয় জায়গা সমুহ ঘুরে দেখতে পারেন, খরচ খুব একটা বেশী হবে না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: