The news is by your side.

বর্ষা বিদায়ে এলো শুভ্রতার প্রতীক শরত

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

কামাল আহাম্মেদঃ বর্ষার স্নিগ্ধতায় আমাদের মন যখন সিক্ত, তখন শুভ্রতার ভালোবাসায় দোলা দেয় শরত। শরতের শুভ্র কাশ ফুল আর নীল আকাশে ভাসে শুভ্র মেঘমালা, বর্ষার ভেজানো মন শরতের শুভ্রতায় ধূসর রঙে সাজিয়ে দেয়, মনে আসে পবিত্রতা।

বর্ষার টুই টুম্ব খাল বিল হাওর নদীর পানি কমতে শুরু করে, কৃষক পানি নেমে যাওয়া তার জমি আবাদির জন্য তৈরিতে মন দেয়, জেলেরা নেমে পরে হাওর বিল আর নদিতে মাছ ধরতে, নদি দুই পারে আর পথের ধারে, পরিত্যাক্ত জমিতে কাশ ফুলের মেলা বসে সাদায় সাদায় প্রকৃতি শুভ্র রঙে সাজে। কাশফুল, পরিষ্কার নীল আকাশ আর সবুজ মাঠ৷ শব্দগুলো শুনলেই মনে আসে ঋতুর রানি শরতের নাম৷ মাত্র ক’দিন আগেই শুরু হয়েছে সেটা৷ বাংলার প্রকৃতিতে শরতের আবির্ভাব আবারো মুগ্ধ করেছে আমাদের৷

 ‘শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি, ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙ্গুলি৷” এভাবেই বাঙালির সামনে শরতের সৌন্দর্য উপস্থাপন করেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর৷ তাঁর মতোই শরতে মুগ্ধ বাংলার কবিকূল৷তবে শুরুটা করেছেন কবিগুরুই৷ শরৎ নিয়ে তাঁর কবিতাই বলুন, কিংবা গান-তার যেন কমতি নেই৷ বিভিন্নভাবে শরৎ সম্পর্কে নিজের আবেগকে তুলে ধরেছেন রবীন্দ্রনাথ৷ কথাগুলো বলেছেন আরেক শরৎপ্রেমী মুস্তফা মনোয়ার৷ তিনি বলেন, ‘‘শরৎ যে এত সুন্দর আগে হয়ত বাঙালি জানতোও না৷ রবীন্দ্রনাথই তাঁর গান, কবিতার মাধ্যমে সবাইকে শরৎকাল উপভোগ করতে শিখিয়েছেন৷ তাঁর গানগুলো শুনলেই শরতের সমস্ত সৌন্দর্য ধরা পড়ে৷”

মুস্তফা মনোয়ার বলেন, শরৎ হচ্ছে চমৎকার মেঘের ঋতু, স্পষ্টতার ঋতু৷ কেননা শরতের আকাশ থাকে ঝকঝকে পরিষ্কার৷ নীল আকাশের মাঝে টুকরো টুকরো সাদা মেঘ যেন ভেসে বেড়ায়৷ তিনি বলেন, ‘‘গ্রামের বধূ যেমন মাটি লেপন করে নিজ গৃহকে নিপুণ করে তোলে, তেমনি শরৎকাল প্রকৃতিকে সুন্দর করে সাজিয়ে দেয়৷ বর্ষার পরে গাছগুলো সজীব হয়ে ওঠে৷ আকাশে হালকা মেঘগুলো উড়ে উড়ে যায়৷”

শরৎ মানেই নদীর তীরে কাশফুল৷ শরৎ মানেই গাছে গাছে হাসনুহানা আর বিলে শাপলার সমারোহ৷ শরৎ মানেই গাছে পাকা তাল৷ সেই তাল দিয়ে তৈরি পিঠা, পায়েস৷ আর ক্ষেতে ক্ষেতে আমন ধানের বেড়ে ওঠা চারা৷

ভাদ্র-আশ্বিন এ দুই মাস বাংলাদেশে শরৎকাল ।শরতের সৌন্দর্য বাংলার প্রকৃতিকে করে রূপময়। গাছপালার পত্রপল্লবে গুচ্ছ গুচ্ছ অন্ধকার ফিকে হয়ে আসতেই পাখপাখালির দল মহাকলরবে ডানা মেলে উড়ে যায় নীল আকাশে।আকাশের উজ্জ্বল নীলিমার প্রান্ত ছুঁয়ে মালার মত উড়ে যায় পাখির ঝাঁক।শিমুল তুলোর মতো ভেসে চলে সাদা মেঘের খেয়া।চারদিকে সজীব গাছপালার ওপর বয়ে যায় শেফালিফুলের মদির গন্ধভরা ফূরফুরে মিষ্টি হাওয়া।শিউলি তলায় হালকা শিশিরে ভেজা দূর্বাঘাসের ওপর চাদরের মত বিছিয়ে থাকে সাদা আর জাফরন রং মেশানো রাশি রাশি শিউলিফুল।শরতের ভোরের এই সুরভিত বাতাস মনে জাগায় আনন্দের বন্যা।তাই খুব ভোরে কিশোর–কিশোরীরা ছুটে যায় শিউলি তলায় ।

শরতের এই স্নিগ্ধ মনোরম প্রকৃতি মানবজীবনেও এক প্রশান্তির আমেজ বুলিয়ে দেয়।কৃষকদের হাতে এ সময় তেমন কোনো কাজ থাকে না।অফুরন্ত অবসর তাদের।মাঠভরা সোনার ধান দেখে কৃষকের মনে দানা বেঁধে ওঠে আসন্ন সুখের স্বপ্ন।শহরের মানুষ ও অবকাশ পেলে শরতের মনোরম প্রকৃতি উপভোগ করার জন্য গ্রামের বাড়িতে ছিুটে যায়।নীল আকাশের সাদা মেঘের ভেলা আর নদীতীরে সাদা কাশফূল,ভোরে হালকা শিউলিভেজা শিউলিফুল সব মিলিয়ে শরৎ যেন শুভ্রতার ঋতু।শরৎকালে রাতের বেলায় জ্যোৎস্নার রূপ অপরূপ ।মেঘমুক্ত আকাশ থেকে কল্প কথার পরীরা ডানা মেলে নেমে আসে পৃথিবীতে।শরতের জ্যোৎস্নার মোহিত রূপ নিজ চোখে না দেখলে বোঝা যায় না । বলা যায়, শরৎ বাংলার ঋতু – পরিক্রমায় সবচেয়ে মোহনীয় ঋতু । শরতের বিদায় প্রন্তে আশ্বিনের আত্তানি অর্থাৎ সারাটা বেলা ঝির ঝির বৃষ্টি থেমে থেমে অবিরাম বহে চলবে, গরম কমতে শুরু করবে, এই গুমোট মেঘলা আকাশ হেমন্তের জানান দিবে। ছয় রঙে সাজানো কি সুন্দর আমাদের এই বাংলাদেশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: