The news is by your side.

হিজরতের সময় নবী করিম সাঃ সাওর পর্বতের একটি গুহায় আত্মগোপন করেছিলেন

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

শরমিতা লায়লা প্রমিঃ সারা বিশ্বের মহা মানব আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সঃ আঃ ইসলাম ধর্মের প্রচার প্রসার আর বিকাশে সারা আরব জাহান বিচরন করেছে, সেই যুগ ছিল আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগ, আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অজ্ঞানতার যুগ শব্দটি দ্বারা ধারণা হতে পারে বোধহয় আরবরা লেখাপড়া, জ্ঞান-বিজ্ঞান ইত্যাদিতে পিছিয়ে ছিল বলেই তাদের যুগকে অজ্ঞানতার যুগ বলা হয়ে থাকে, কিন্তু আসলে তা নয়। এই অজ্ঞানতা হচ্ছে মূলত ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে অজ্ঞানতা, সত্য-মিথ্যা সম্পর্কে অজ্ঞানতা। তৎকালীন আরব সমাজে ন্যায়-অন্যায়ের কোনো বালাই ছিল না। সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করা হতো না। শক্তিমানের মুখের কথাই ছিল আইন। অবাধে চলত অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার, অনাচার, ব্যভিচার, চুরি, ডাকাতি, হত্যা ও রক্তপাত। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোত্রে বিভক্ত ছিল সমাজ। ছিল না সুবিন্যস্ত কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা, অবিসংবাদিত কোনো নেতৃত্ব। প্রাত্যহিক উদরপূর্তি, জৈবিক চাহিদা পূরণ বা বৈষয়িক ভোগ-বিলাস ছাড়াও মানবজীবনের যে মহিমান্বিত কোনো লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকতে পারে সেকথা যেন তারা কল্পনাও করতে পারত না। অনেকগুলো ছোট-বড় গোত্রে বিভক্ত হয়ে তারা জীবনযাপন করত, যেই গোত্রগুলোর মধ্যে না ছিল ঐক্য, না ছিল ভ্রাতৃত্ব, আর না ছিল কোনো জাতীয় চেতনা। মারামারি, কাটাকাটি, রক্তারক্তি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। এক গোত্রের সাথে আরেক গোত্রের যুদ্ধ-সংঘাত সারা বছর লেগেই থাকত এবং তাও অতি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু যত তুচ্ছ কারণেই হোক, যুদ্ধ একবার লেগে গেলে সহজে শেষ হতো না। কোনো কোনো যুদ্ধ চলত শতাব্দীকাল অবধি।এই সময়ই আমাদের প্রিয় নবীজি ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারে কাজ করেন এই কাজ করতে গিয়ে নবিজীকে বিভিন্ন সময় শত্রু পখের আক্রমনের শিকার হতে হয়। এ গুহার মধ্যেই হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ও হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) মদিনা মোনাওয়ারায় হিজরত করার সময় ৩ দিন আত্মগোপন করেছিলেন। এই গুহায় আত্মগোপনের সেই সঙ্কটময় সময়েও নবী করিম (সা.) ছিলেন আল্লাহর সাহায্যের ওপর পূর্ণ আস্থাশীল ও দুশ্চিন্তাহীন। কোরআনে কারিমে এ প্রসঙ্গে উল্লেখ আছে যে, ‘যদি তোমরা তাকে (নবী মুহাম্মদকে) সাহায্য না করো, তবে মনে রেখো, তাকে কাফেররা (মক্কা থেকে) বহিষ্কার করেছিল। তিনি ছিলেন দু’জনের একজন, যখন তারা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিলেন, তখন তিনি আপন সঙ্গীকে বললেন, চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।’ -সূরা তাওবা: ৪০
এ গুহার মধ্যেই হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ও হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) মদিনা মোনাওয়ারায় হিজরত করার সময় ৩ দিন আত্মগোপন করেছিলেন।
সাওর পাহাড়ের গুহায় আত্মগোপন প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি নবী করিম (সা.)-এর সঙ্গে গুহায় ছিলাম, আমি মুশরিকদের পদচারণা প্রত্যক্ষ করছিলাম, আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের কেউ যদি পা উঠায় তাহলেই আমাদের দেখে ফেলবে, তিনি বললেন, আমাদের দু’জন সম্পকে তোমার কী ধারণা? আমাদের তৃতীয় জন হলেন- আল্লাহ। অর্থাৎ তিনি আমাদের সাহায্যকারী।’ –সহিহ বোখারি ও মুসলিম
তাই জীবন বাঁচানোই মহান আল্লাহতায়ালা শ্রেষ্ঠ কাজ মনে করেন, আজ আমরা ভয়াবহ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এই ছোঁয়াচে রোগ থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান নিয়ে মহান আল্লাহতায়ালার কৃপা লাভে ঘরেই নামাজ এবাদত বন্দেগী করতে হবে, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সঃ আঃ আমাদের জন্য সেই দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: